মূল কনটেন্টে যান
OpenAI

৮ অক্টোবর, ২০২৬

নিরাপত্তা

এআই-সহায়তায় “ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে” অভিযান ব্যাহত করা

লোডিং…

গত আড়াই বছরে ক্ষতিকর কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিরা আমাদের মডেল দিয়ে সাইবার হামলা, গোপন প্রভাব বিস্তার অভিযান, প্রতারণা এবং আমাদের ব্যবহার নীতির অন্যান্য লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন. এসব কাজে তাঁরা যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, সেসবের মধ্যে অনেকগুলো নিয়ে আমরা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি. ক্ষতিকর পক্ষগুলো এআইকে যেভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে আমরা দেখছি, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্পখাতের সহকর্মী ও বৃহত্তর সমাজকে জানাতে এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করি. পাশাপাশি তারা যেসব দুর্বলতা কাজে লাগাতে চায়, সেগুলোও তুলে ধরি.

সম্প্রতি আমরা দুটি প্রভাব বিস্তার অভিযান নিষিদ্ধ করেছি—একটি রাশিয়ার, অন্যটি ইরানের. এগুলো আমাদের মডেলের সঙ্গে প্রচলিত কৌশল ও প্রযুক্তি মিলিয়ে সুপরিকল্পিত “ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে থাকা” প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করছিল. এসব প্রতিষ্ঠান দিয়ে তারা ভূরাজনীতি ও সংঘাত-সংক্রান্ত বার্তার আসল উৎস আড়াল করে লক্ষ্যবস্তু শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিত. ইরানি অভিযানে সাতটি ভুয়া “সাংবাদিক” পরিচয় ছিল, যেগুলো দিয়ে বিশ্বজুড়ে ছোট ও মাঝারি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া হতো. রুশ অভিযানটি লাতিন আমেরিকায় একটি “গবেষণা সংস্থা” চালাতে মানুষকে তাঁদের অজ্ঞাতসারে নিজেদের কাজে যুক্ত করেছিল বলে মনে হয়.

দুটি অভিযানই ছিল বহুমুখী; লক্ষ্য পূরণে তারা নানা কৌশল পরীক্ষা করছিল. দীর্ঘ নিবন্ধের পাশাপাশি ইরানি অভিযানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য একসঙ্গে অনেক মন্তব্য তৈরি করত, সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ-সংক্রান্ত বিষয়ে. “গবেষণা সংস্থা” নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রুশ অভিযানটি ভুয়া “ফাঁস হওয়া” নথি ও অডিওর পাণ্ডুলিপি তৈরি করত. এগুলোর কিছু অনলাইনে ছড়াতে দেখেছি আমরা. দুটি অভিযানই অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন লিখতে ব্যাপকভাবে এআই ব্যবহার করেছে (রুশ অভিযান অন্য যেকোনো কাজের চেয়ে এ কাজেই বেশি ব্যবহার করেছে). উভয় ক্ষেত্রেই পরিচালনাকারীদের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেখাতে প্রশ্নবিদ্ধ বা সরাসরি প্রতারণামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে.

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, এসব অভিযানের সঙ্গে এআই-পূর্ব যুগের জটিল প্রভাব বিস্তার অভিযানের ঘনিষ্ঠ মিল ছিল, তবে কাজের কিছু ধাপ সহজ করতে এআই ব্যবহার করা হয়েছে. ইরানি অভিযানের সাংবাদিক পরিচয়গুলোর সঙ্গে ভুয়া সাংবাদিক “অ্যালিস⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) ডোনোভানের⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে)” সাদৃশ্য ছিল. রুশ সামরিক গোয়েন্দাদের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত এই পরিচয়ে ২০১৬–১৭ সালে বিভিন্ন পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়. ২০২০ সালে রুশ ইন্টারনেট রিসার্চ এজেন্সির আগের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা “পিসডেটা⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে)” নামে একটি ভুয়া “সংবাদমাধ্যম” চালান. সেটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের তাঁদের অজ্ঞাতসারে নিজেদের জন্য লেখার কাজে যুক্ত করে.

সম্ভাব্য পাঠক-দর্শকের বিস্তারের দিক থেকেও এসব অভিযান ছিল ব্যতিক্রমী. প্রভাব বিস্তার অভিযানকে ১ (সর্বনিম্ন) থেকে ৬ (সর্বোচ্চ) মাত্রায় মূল্যায়নকারী বিস্তার-পরিমাপক স্কেল⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) অনুযায়ী, রাশিয়াভিত্তিক অভিযানটিকে আমরা ৫ম শ্রেণিতে রাখব. প্রতিবেদন প্রকাশ শুরুর পর এটিই আমাদের ব্যাহত করা প্রথম ৫ম শ্রেণির অভিযান. ইরানভিত্তিক অভিযানটি ৪র্থ শ্রেণিতে পৌঁছেছিল. দুটিই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার বদলে মূলধারার গণমাধ্যমে তাদের উপাদান প্রকাশ করাতে পেরেছিল. এসব উপাদানের সবই আমাদের মডেল দিয়ে তৈরি হয়নি. গত আড়াই বছরে আমাদের ফাঁস করা ৩০টি গোপন প্রভাব বিস্তার অভিযানে দেখা একটি প্রবণতার সঙ্গে এটি সংগতিপূর্ণ: ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ওপর নির্ভর না করে যেসব অভিযান প্রকৃত গণমাধ্যমে উপাদান প্রকাশের চেষ্টা করে, সেগুলোর সম্ভাব্য বিস্তার ও প্রভাব সাধারণত সবচেয়ে বেশি হয়.

প্রধান প্রচারমাধ্যম ও বিস্তার-পরিমাপক স্কেলের শ্রেণি অনুযায়ী ৩০টি প্রভাব বিস্তার অভিযানের ছক. বাইরের প্রকাশনা ব্যবহার করা অভিযানগুলো ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণিতে পৌঁছেছে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর অভিযানগুলো পৌঁছেছে ১ম থেকে ৩য় শ্রেণিতে.

২০২৪ সালের শুরু থেকে আমাদের ফাঁস করা ৩০টি প্রভাব বিস্তার অভিযানের ছক. প্রধান প্রচারমাধ্যম (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অভিযানের নিজস্ব ওয়েবসাইট, বাইরের প্রকাশনা) ও বিস্তার-পরিমাপক স্কেলের মান অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়েছে. ওয়েবসাইট চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রচারের মতো একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করা অভিযানকে সেই পদ্ধতি অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা অভিযানের মূল অংশ বলে মনে হয়েছে.

এআই এমন ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে চলা অভিযানের পরিসর, দক্ষতা, ভাষাগত সাবলীলতা ও সম্পাদনার সক্ষমতা বাড়াতে পারে. পরিচালনাকারীরা এসব সুবিধা দিয়ে কর্মী বা সম্পাদকের মতো সন্দেহহীন ব্যক্তিদের কাজে লাগাতে পারেন. তাঁদের মাধ্যমে এমন শ্রোতাদের সামনে নিজেদের উপাদান হাজির করতে পারেন, যাঁরা এর নেপথ্যের ব্যক্তি বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানেন না. এসব অভিযান দেখায়, নিজেদের লক্ষ্য পূরণে ক্ষতিকর পক্ষগুলোর ভুয়া ব্যক্তি-পরিচয় ও প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের কৌশল কতটা জটিল ও সুপরিকল্পিত. ক্ষতিকর পক্ষগুলো এসব প্রচেষ্টায় কোন দুর্বলতা কাজে লাগায় এবং কীভাবে তা শ্রোতা ও প্রচারের বিস্তার বাড়ায়, তা বোঝা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য হবে.

তবে ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে চলা এসব অভিযানের গোপন চরিত্রের কারণেই দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশ করলে এগুলো বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়. ফাঁস হওয়ার পর “অ্যালিস ডোনোভান” ও “পিসডেটা”—দুটিই কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়. এ কারণেই এসব অভিযান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে আমাদের লক্ষ্য হলো আরও গবেষণা ও প্রতিরোধ সহজ করা—আর অভিযান চালিয়ে যাওয়া কঠিন করে তোলা.

রাশিয়া: “ডার্ক ক্লার্ক” অভিযান

লাতিন আমেরিকাজুড়ে প্রভাব বিস্তারের প্রচার চালানো রাশিয়াভিত্তিক পক্ষগুলো.

সংশ্লিষ্ট পক্ষ

আমরা রাশিয়া থেকে পরিচালিত একগুচ্ছ ChatGPT অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছি. তারা লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশকে লক্ষ্য করে গোপন প্রভাব বিস্তার অভিযানের নানা কাজে ChatGPT ব্যবহার করত. এই কার্যক্রমের বড় অংশের লক্ষ্য ছিল অঞ্চলে ইউক্রেনের সুনাম ক্ষুণ্ন করা বলে মনে হয়েছে. কিছু কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় রাজনৈতিক ফলাফলে প্রভাব ফেলা, বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও বলিভিয়ায়. অধিকাংশ পরিচালনাকারী রুশ ভাষায় নির্দেশ দিতেন. একজন স্প্যানিশে নির্দেশ দিলেও তাঁকেও রাশিয়ায় অবস্থানরত বলেই মনে হয়েছে. আমরা এ ঘটনার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি.

পরিচালনাকারীরা ChatGPT দিয়ে প্রধানত তিনটি কাজ করতেন: নিজেদের কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন লেখা (এবং অন্যদের এমন কাজ নিয়ে, যার কৃতিত্ব তাঁরা বিশ্বাসযোগ্যভাবে দাবি করতে পারেন); অভিযানের উপাদান তৈরি; এবং লাতিন আমেরিকায় সোশ্যাল রিসার্চ সেন্টার (এসআরসি) নামের স্বঘোষিত “গবেষণা মঞ্চের” কাজের মূল্যায়ন প্রতিবেদন লেখা. তাঁরা “মিয়া ক্লার্ক” নামে একটি ভুয়া পরিচয় দিয়ে এসআরসি নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে মনে হয়. সেই নামের সূত্রে আমরা অভিযানটির নাম দিয়েছি “ডার্ক ক্লার্ক”. রাশিয়া থেকে আমাদের মডেল ব্যবহারের অনুমতি নেই বলে তাঁরা ভিপিএন দিয়ে আমাদের সেবায় যুক্ত হতেন.

অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে পরিচালনাকারীরা দাবি করেন, ইউক্রেন বা স্থানীয় নেতাদের হেয় করতে তাঁরা লাতিন আমেরিকাজুড়ে ভুয়া খবর ছড়িয়েছেন. উন্মুক্ত সূত্রের⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) গবেষকেরা⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) কিছু জাল উপাদানের উৎস হিসেবে “পলিটোলজি” বা “লা কম্পানিয়া” নামে একটি রুশ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছেন. প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ওয়াগনার গোষ্ঠী ও রুশ ধনকুবের ইয়েভগেনি প্রিগোঝিনের প্রতিষ্ঠিত অন্য সংস্থাগুলোর উত্তরসূরি. পরিচালনাকারীরা আমাদের মডেলগুলোকে পলিটোলজি ও ওয়াগনার নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করতেও বলেন. রাশিয়াভিত্তিক অন্য যেকোনো নেটওয়ার্কের তুলনায় এগুলো নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন অনেক বেশি ছিল.

দুটি দিক থেকে অভিযানটি ছিল ব্যতিক্রমী. প্রথমত, এটি লাতিন আমেরিকার কিছু মানুষকে সফলভাবে এসআরসির কাজে যুক্ত করতে পেরেছে বলে মনে হয়. এসআরসি নিয়ে রুশ পরিচালনাকারীদের প্রতিবেদনে বেতনকাঠামো, নিয়োগ ও বরখাস্তের মতো বিষয়ে সিদ্ধান্তের উল্লেখ ছিল. এতে বোঝা যায়, তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সহযোগিতা নয়, বরং সেটি নিয়ন্ত্রণ করতেন. উপলব্ধ প্রমাণের ইঙ্গিত হলো, লাতিন আমেরিকায় এসআরসির কর্মীরা জানতেন না যে তাঁরা একটি রুশ গোষ্ঠীর জন্য কাজ করছেন. রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি “গবেষণা সংস্থা”, যা আমরা সম্প্রতি ফাঁস করেছি, সেটির বিপরীতে এসআরসি নিজেদের কাজে যুক্ত কর্মীদের দিয়ে বেশির ভাগ মৌলিক উপাদান তৈরি করেছে বলে মনে হয়. গত আড়াই বছরে আমরা আড়াল হিসেবে ভুয়া পরিচয় চালানোর যত চেষ্টা ব্যাহত করেছি, এটি তার মধ্যে সবচেয়ে জটিল.

দ্বিতীয়ত, উন্মুক্ত সূত্রের কিছু প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, ডার্ক ক্লার্কের জাল উপাদান এতটাই ছড়িয়েছিল যে তথ্য যাচাই⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) ও সরকারি অস্বীকৃতির⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) প্রয়োজন পড়ে. এটি গত দুই বছরে আমাদের ব্যাহত করা অন্য যেকোনো প্রভাব বিস্তার অভিযানের চেয়ে বেশি বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়. অভিযানটি পেরুতে যে জাল উপাদান ছড়ানোর দাবি করে, তার একটি ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের মধ্যে প্রকাশ্য উত্তেজনাও উসকে দেয়.

অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন

পরিচালনাকারীরা প্রধানত অজ্ঞাত এক ঊর্ধ্বতনের কাছে পাঠানোর অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন লেখা ও হালনাগাদ করতে ChatGPT ব্যবহার করতেন. এসব নিয়মিত প্রতিবেদনে লাতিন আমেরিকাজুড়ে গোপন প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা বর্ণনা করা হতো. এতে তিনটি প্রধান কাজের ধারা ছিল: ইউক্রেনকে হেয় করা ও ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর নিয়োগে বাধা দেওয়া; কিছু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে বলিভিয়া ও আর্জেন্টিনায়; এবং এসআরসি পরিচালনা. বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্ষতিকর পক্ষগুলোকে প্রচারের উপাদান তৈরির জন্য নয়, শুধু সেসব নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে আমাদের মডেল ব্যবহার করতে দেখেছি (কয়েকটি ব্যতিক্রম নিচে⁠ বর্ণিত হয়েছে).

প্রতিবেদনগুলোতে কৌশলের বিস্তারিত বিবরণ ছিল. এগুলো দেখায়, অভিযানটি কীভাবে ইউক্রেন ও কিছু জাতীয় নেতার অবস্থান দুর্বল করতে চেয়েছিল—বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া ও ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টদের. কিছু প্রতিবেদনে স্থানীয়দের ঠকিয়ে এমন কাজ করানোর চেষ্টা বর্ণিত ছিল, যা পরিচালনাকারীরা নিজেদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারতেন. অন্যগুলোতে তাঁদের ছড়ানোর দাবি করা ভুয়া “ফাঁস হওয়া” তথ্যের বিবরণ ছিল.

দুটি ক্ষেত্রে প্রমাণের মাধ্যমে পরিচালনাকারীদের সঙ্গে “পলিটোলজি” নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের যোগসূত্র পাওয়া যায়. পরিচালনাকারীরা জানান, ২০২৪ সালে তাঁরা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে লক্ষ্য করে দুটি প্রচার চালান. প্রথমত, তাঁরা বলেন, মিলেই তাঁর কুকুরদের জন্য কার্টিয়েরের রত্নখচিত গলার বেল্ট কিনেছেন—এমন মিথ্যা খবর ছড়িয়েছেন. দ্বিতীয়ত, তাঁরা দাবি করেন, বুয়েনোস আইরেসে মিলেইবিরোধী দেয়াললিখন করতে স্থানীয় লোকদের অর্থ দিয়েছেন. ফাঁস হওয়া নথির ভিত্তিতে এই দুটি কাজই “পলিটোলজি” ও “লা কম্পানিয়ার” বলে প্রকাশ্যে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) চিহ্নিত করা হয়েছে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে).

আরও অনেক জাল উপাদানের সঙ্গে আগে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার অভিযানের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি. যেমন, পরিচালনাকারীরা দাবি করেন, ২০২৬ সালের মে মাসে তাঁরা পেরুর লিমার আঞ্চলিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি ভুয়া ইমেইল ঠিকানা তৈরি করেন. সেটি ব্যবহার করে তাঁরা জেলার স্কুলগুলোকে জাতীয় সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য দিবসে (২১ মে) ইউক্রেনকে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশ দেন. ইমেইলগুলোতে অন্যদের পাশাপাশি বিংশ শতাব্দীর বিতর্কিত ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদী স্তেপান বান্দেরার উল্লেখ করার স্পষ্ট নির্দেশ ছিল. কিছু ইউক্রেনীয় তাঁকে স্বাধীনতার প্রতীক মনে করেন, কিন্তু রাশিয়া ও পোল্যান্ডে তাঁকে ফ্যাসিবাদ, যুদ্ধকালীন শত্রুপক্ষের সহযোগিতা ও নৃশংসতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়. পরিচালনাকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু স্কুল ওই ভুয়া ইমেইল ঠিকানায় উত্তর দিয়ে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা নিশ্চিত করে, এমনকি ছবিও পাঠায়.

এরপর পরিচালনাকারীরা দাবি করেন, তাঁরা পেরু ও পোল্যান্ডের গণমাধ্যমে এসব অনুষ্ঠান নিয়ে খবর প্রকাশ করান. পাশাপাশি ইউক্রেন উগ্র জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ “রপ্তানি” করছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উসকে দেন. উন্মুক্ত সূত্রে অনুসন্ধান করে পেরুর⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) ও⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) পোল্যান্ডের⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) সংবাদমাধ্যমে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) এবং হাঙ্গেরির⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) একটি ইংরেজি প্রকাশনায় এই দাবির সঙ্গে মিলে যায় এমন খবর পাওয়া গেছে (কিছু নিবন্ধ পরে মুছে ফেলা হয়েছে). কিছু⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) নিবন্ধে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক পোলিশ সদস্যের প্রতিক্রিয়া ছিল. তিনি “পোল্যান্ডবিদ্বেষ” দেখানো ব্যক্তিদের পোল্যান্ডে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণার প্রস্তাব দেন. এভাবে রাশিয়ার এই জালিয়াতি ইউক্রেনীয় ও পোলিশদের ঐতিহাসিক উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়েছে, আবার তা আরও উসকেও দিয়েছে.

একইভাবে জুনে পরিচালনাকারীরা দাবি করেন, তাঁরা আরেকটি ভুয়া ইমেইল ঠিকানা দিয়ে ইকুয়েডরের স্কুলগুলোকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন. স্কুলগুলো প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া ও বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার ব্ল্যাকওয়াটারের সাবেক প্রধান এরিক প্রিন্সের প্রতি আনুগত্যের শপথের অনুষ্ঠান আয়োজন করে. পরিচালনাকারীদের দাবি, ঘটনাটি ইকুয়েডরে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং সরকারকে ওই ভুয়া তথ্য খণ্ডনের চাপে ফেলে. ফলে তা দেশজুড়ে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়. এ ক্ষেত্রেও উন্মুক্ত সূত্রের গবেষণায় ইকুয়েডরের⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) সংবাদপত্রে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) ও গণমাধ্যমে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) এই দাবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যায় এমন প্রতিবেদন⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে), এমনকি দেশটির শিক্ষামন্ত্রীর বিস্তারিত খণ্ডনও⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) পাওয়া গেছে.

মিথ্যা খবরকে বিশ্বাসযোগ্য করতে পরিচালনাকারীরা নানা কৌশল ব্যবহার করেছেন. তাঁদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চে তাঁরা ইকুয়েডরকে লক্ষ্য করে দুটি আলাদা জাল উপাদান ছড়ান. একটিতে ইকুয়েডরে ইউক্রেনের কনসালের নামে জাল অডিও ব্যবহার করা হয়. অভিযোগ করা হয়, এতে তিনি ইকুয়েডরীয়দের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন. উন্মুক্ত সূত্রে আমাদের অনুসন্ধানে টিকটকে ঠিক এই দাবির সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি পোস্ট পাওয়া গেছে; এতে মানুষের সাড়া সীমিত ছিল বলেই মনে হয়েছে. অন্যটিতে একটি আসল সংবাদ চ্যানেলের লোগো দিয়ে এক্স ও টিকটকে ছড়ানো জাল ভিডিওর বিবরণ ছিল. এতে দাবি করা হয়, নোবোয়ার সরকার ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য তরুণদের নিয়োগ দিচ্ছে. এপ্রিলের শুরুতে ইকুয়েডরের তথ্য যাচাইকারীরা⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) এই বিবরণের সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি প্রচারের বর্ণনা দেন.

কিছু তথ্য ঢেকে দেওয়া টিকটক স্ক্রিনশট. ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিলের পোস্টে ইকুয়েডরে ইউক্রেনের কনসালের নামে জাল অডিও ছড়ানো হচ্ছে.

২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল টিকটকে প্রকাশিত ভিডিও. এতে ইউক্রেনীয় কনসালের নামে চালানো জাল অডিও রয়েছে, যা তৈরির দাবি করেছে এই অভিযান.

আরেকটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে মে মাসের শেষ দিকে বলিভিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের চরম পর্যায়ে তাঁদের ছড়ানো একটি জাল উপাদানের বিবরণ ছিল. পরিচালনাকারীরা স্পষ্টভাবে জানান, এই প্রচারের লক্ষ্য ছিল বিক্ষোভ ঘিরে সংকট আরও তীব্র করা. এই প্রচারে রাষ্ট্রীয় পানি সরবরাহ সংস্থা ইপসাসের এক কর্মীর নামে জাল অডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করা হয়. এতে বলা হয়, সরকার প্রশাসনিক রাজধানী লা পাজে পানি সরবরাহ বন্ধ করে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে যাচ্ছে. উন্মুক্ত সূত্রে আমাদের গবেষণায় একই দাবির অসত্যতা তুলে ধরা একটি প্রতিবেদন⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) এবং ইপসাসের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) পাওয়া গেছে.

অন্য কিছু অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে এমন জাল উপাদানের উল্লেখ ছিল, যেগুলোর সমর্থনে আমরা উন্মুক্ত সূত্রে প্রমাণ পাইনি. সম্ভবত সেগুলো আগেই সরানো হয়েছিল বা ছড়াতে পারেনি. যেমন, পরিচালনাকারীরা দাবি করেন, জানুয়ারিতে তাঁরা এমন একটি খবর ছড়ান যে ইউক্রেনীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ব্রাজিলের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও মডেলকে ইউক্রেনে পাচার করেন এবং কিয়েভে তাঁকে হত্যা করা হয়. জুনে তাঁরা বলিভিয়ায় আরেকটি জাল অডিও ছড়ানোর দাবি করেন. এবার বলিভিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মীর নামে সতর্ক করা হয়, ব্যাংকটি নগদ উত্তোলন সীমিত করতে যাচ্ছে. তাঁরা দেশটির হাইড্রোকার্বন সংস্থার নামে জাল চিঠি ছড়ানোরও দাবি করেন, যাতে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি বিক্রিতে বিধিনিষেধের সতর্কতা ছিল.

অন্য কিছু প্রতিবেদনে পরিচালনাকারীরা আমাদের মডেলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু দেশগুলোতে এমন ঘটনা খুঁজতে বলেন, যেগুলোতে জড়িত না থাকলেও তাঁরা কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন. যেমন, আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীরা দাবি করেন, ফকল্যান্ড / মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাতিসংঘের একটি কমিটির বৈঠকে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের অভিযানের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন. পরিচালনাকারীরা দুটি যুক্তি ছড়ানোর কৃতিত্ব নেন: দ্বীপপুঞ্জে আত্মনিয়ন্ত্রণের নীতি প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে যুক্তরাজ্যের সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত. প্রকৃতপক্ষে, দুটি যুক্তিই বহু⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) বছর⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) ধরে আর্জেন্টিনার সরকারি অবস্থানের অংশ. একইভাবে, জুনে ব্রাজিলের গণমাধ্যম এক ব্রাজিলীয় নাগরিককে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে). তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে ইউক্রেনে যান, রুশ বাহিনীর হাতে বন্দী হন, পরে টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে দাবি করেন যে তাঁকে প্রতারণা করে যুদ্ধে নামানো হয়েছে. ChatGPT ব্যবহারকারী পরিচালনাকারীরা দাবি করার চেষ্টা করেন, ওই প্রতিবেদনে তাঁদের অভিযানের বার্তা পুনরুৎপাদন করা হয়েছে; আসলে সেটিতে বন্দী ব্যক্তির নিজের ভিডিও উদ্ধৃত করা হয়েছিল⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে). এতে মনে হয়, পরিচালনাকারীরা বাইরের কোনো শ্রোতার বদলে নিজেদের নিয়োগকর্তাদের লক্ষ্য করেই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন.

“গবেষণা মঞ্চ”

পরিচালনাকারীদের কিছু প্রতিবেদনে সোশ্যাল রিসার্চ সেন্টার নামে একটি স্বঘোষিত “গবেষণা মঞ্চের” উল্লেখ ছিল (রুশ ভাষায় যার অর্থ সমাজতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র). এসআরসির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এটি লাতিন আমেরিকায় ভারতীয় প্রবাসীদের এবং ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে.

অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনগুলো থেকে ইঙ্গিত মেলে, পরিচালনাকারীরা শুধু গবেষণা সংস্থাটির সঙ্গে কাজ করতেন না, এটি নিয়ন্ত্রণও করতেন. যেমন, তাঁরা নিয়োগ ও বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, বেতনকাঠামো, জনবল পরিকল্পনা এবং চলমান গবেষণা প্রকল্পের উল্লেখ করেছেন. গুরুত্বপূর্ণভাবে, প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, অভিযানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম চালাতে ও লাতিন আমেরিকার মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পরিচালনাকারীরা “মিয়া ক্লার্ক” নামে একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেছিলেন. উপলব্ধ প্রমাণ থেকে মনে হয়, মাঠপর্যায়ের এসব কর্মী জানতেনই না যে তাঁরা রাশিয়ার একটি অভিযানের জন্য কাজ করছেন; তাঁরা সরল বিশ্বাসে গবেষণার কাজ করতেন. অজ্ঞাতসারে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মানুষকে ব্যবহারের এই কৌশলের সঙ্গে রাশিয়ার আগের “পিসডেটা” অভিযানের প্রবল মিল রয়েছে. প্রিগোঝিনের বলয়ের সঙ্গেও যুক্ত সেই অভিযান ২০২০ সালে মেটা ফাঁস করে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে).

রুশ পরিচালনাকারীদের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, লাতিন আমেরিকায় তাঁদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অঞ্চলজুড়ে বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের সাক্ষাৎকার নিতেন, তারপর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাপত্রের খসড়া লিখতেন. বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ব্রিকস গোষ্ঠী নিয়ে জনমতের বিস্তৃত বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো ও লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার আমলে ব্রাজিলের অর্থনীতির বিস্তারিত তুলনা. কখনো কখনো গবেষণা প্রকাশের আগেই রুশ পরিচালনাকারীরা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন লিখতেন. এটি তৈরির প্রক্রিয়ায় তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়. এসআরসির ওয়েবসাইটে আমরা ৬০টির বেশ অনেক বেশি নিবন্ধ শনাক্ত করেছি, যার সিংহভাগই মৌলিক রচনা বলে মনে হয়েছে. এ দিক থেকে ডার্ক ক্লার্ক রাশিয়াভিত্তিক আরেকটি অভিযান থেকে আলাদা, যা আমরা সম্প্রতি ফাঁস করেছি. সেটিও আড়াল হিসেবে গবেষণা সংস্থা চালাত, তবে এর বেশির ভাগ লেখাই ছিল নকল. ডার্ক ক্লার্কের ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকাজুড়ে যোগাযোগসহ আরও দীর্ঘস্থায়ী একটি আড়াল-প্রতিষ্ঠান গড়ার অভিপ্রায় দেখা যায়.

এসআরসির কাজের প্রচারে রুশ পরিচালনাকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের একটি নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন. তাঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পরিচালনাকারীরা একই অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে সমস্যা দেখা দেয় এবং অ্যাকাউন্টগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়. উন্মুক্ত সূত্রের তথ্যেও এর চিহ্ন দেখা যায়. যেমন, এক্সে এসআরসির প্রধান অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্যে অবস্থান জার্মানি দেখানো হয়েছিল (সম্ভবত ভিপিএন ব্যবহারের কারণে), কিন্তু সংযোগ ছিল রুশ ফেডারেশনের অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে. আর এর একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রশাসকের অবস্থান দেখানো হয় ভেনেজুয়েলা. আমাদের শনাক্ত করা এসআরসির নাম-পরিচয়ধারী তিনটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের কোনোটিতেই প্রশাসকের অবস্থান দেখানোর জন্য পর্যাপ্ত অনুসারী ছিল না.

সোশ্যাল রিসার্চ সেন্টারের অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্যের স্ক্রিনশট: এর এক্স অ্যাকাউন্ট রুশ ফেডারেশনের অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল, আর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অবস্থান হিসেবে ভেনেজুয়েলা দেখানো হয়েছিল.

বাঁয়ে, সোশ্যাল রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত এক্স অ্যাকাউন্ট. স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্যে রুশ ফেডারেশনের অ্যাপ স্টোর দিয়ে সংযোগের বিষয়টি লক্ষ করুন. ডানে, এসআরসির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট: ভেনেজুয়েলার অবস্থানটি লক্ষ করুন.

পরিচালনাকারীরা লিংকডইনে বিশেষ সমস্যার কথা জানান. তাঁরা বলেন, এসআরসির প্রতিনিধিত্ব করতে জেনেশুনেই একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন, কিন্তু সেটির জন্য যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়তে হিমশিম খান. তাঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাধান ছিল প্রথম অ্যাকাউন্টটিকে অনুসরণ করার জন্য আরও ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা, যাতে সেটিকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য দেখায়. ১৭ আগস্ট পর্যন্ত একই সোশ্যাল রিসার্চ সেন্টারের নাম-পরিচয়ধারী একটি লিংকডইন অ্যাকাউন্টে ৯৬১ জন অনুসারী ছিল. এতে ২০০–৫০০ কর্মী থাকার দাবি করা হলেও তালিকায় ছিলেন মাত্র দুজন.

জাল উপাদান তৈরি

প্রতিবেদন হালনাগাদের পাশাপাশি কখনো কখনো পরিচালনাকারীরা অভিযানে ব্যবহারের জন্য লেখা পরিকল্পনা ও তৈরিতে আমাদের মডেলের সাহায্য চাইতেন. যেমন, জাল উপাদানে বিভিন্ন দেশের উপযোগী উচ্চারণ, শব্দচয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতি ঠিক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলতেন. মোট কাজের তুলনায় এর অংশ ছিল ছোট. সম্ভবত কারণ, অভিযানে লাতিন আমেরিকার অন্তত একজন মাতৃভাষী স্প্যানিশভাষী ছিলেন বলে মনে হয়, তাই এআইয়ের ভাষাগত সহায়তার প্রয়োজন কম ছিল.

যেমন, একবার রুশভাষী এক পরিচালনাকারী পানামায় ইউক্রেনের সম্মানসূচক কনসালকে দুর্নীতিতে জড়ানোর মতো একটি চিঠি রুশ ভাষায় লিখতে মডেলের সাহায্য চান. এরপর স্প্যানিশভাষী পরিচালনাকারী মডেলকে চিঠিটি স্প্যানিশে অনুবাদ করতে এবং সঙ্গে দেওয়ার জন্য একটি অডিওর পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে বলেন. চিঠির লেখার সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি ছবি এবং পরিচালনাকারীর পাণ্ডুলিপির সঙ্গে মিলে যায় এমন নেপথ্য কণ্ঠ টিকটকের একটি অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়. অ্যাকাউন্টটি নিজেকে সংবাদমাধ্যম দাবি করলেও পানামার টিভিএন নোতিসিয়াসের⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) লোগো ব্যবহার করেছিল. টিকটক চ্যানেলটির অনুসারী ছিল মাত্র একজন. এই জাল উপাদান পোস্ট করার পর এটি আর কিছু পোস্ট করেনি.

কিছু তথ্য ঢেকে দেওয়া টিকটক স্ক্রিনশট. এতে পানামার আর্থিক খাতের সঙ্গে ইউক্রেনের যোগাযোগ নিয়ে একটি জাল চিঠি এবং অভিযানে তৈরি নেপথ্য কণ্ঠ রয়েছে.

টিকটক পোস্টে দেখানো চিঠির লেখা এই অভিযানে তৈরি. সঙ্গে থাকা নেপথ্য কণ্ঠের পাণ্ডুলিপিও একই অভিযানে তৈরি.

আরেকবার রাশিয়ায় থাকা স্প্যানিশভাষী পরিচালনাকারী মডেলকে একটি রুশ পাণ্ডুলিপি দেন, যাতে দাবি করা হয় নোবোয়া ইকুয়েডরের দরিদ্র মানুষদের অপমান করেছেন. তিনি সেটি ইকুয়েডরের স্প্যানিশে অনুবাদ করতে বলেন. তৃতীয়বার, মার্চে একই ব্যবহারকারী “ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি সলিউশনস এফজেডই” নামের একটি কোম্পানি ও ইকুয়েডরের এক ব্যক্তির মধ্যে স্প্যানিশে লেখা খসড়া চুক্তির ভাষা যাচাই করতে বলেন. চুক্তিটি ইউক্রেনে অবকাঠামোগত সেবা দেওয়ার জন্য বলে দাবি করা হয়. ব্যবহারকারীর প্রশ্নগুলো ছিল ভাষা ও বিন্যাস উন্নত করা নিয়ে, যেমন কোন শব্দগুলো মোটা হরফে থাকা উচিত.

চুক্তির ভাষা চূড়ান্ত হওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবহারকারীর নির্দেশ দেওয়া শেষ হয়. তবে উন্মুক্ত সূত্রের গবেষণায় দেখা যায়, পরে ওই “চুক্তির” একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে). এটি দিয়ে এমন দাবিকে জোরালো করা হয় যে নোবোয়ার সরকার একটি আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত কোম্পানির সঙ্গে মিলে ইকুয়েডরীয়দের ঠকিয়ে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করিয়েছে. জাল উপাদানটি এতটাই ছড়ায় যে এপ্রিলের শুরুতে একটি তথ্য যাচাই প্রতিবেদন⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) প্রকাশিত হয়. যাচাইকারীরা জানান, কোম্পানিটি “ইকুয়েডরের কোম্পানি, সিকিউরিটিজ ও বিমা তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষের নিবন্ধনে নেই”.

প্রভাব

এই অভিযানের প্রভাব বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন. আগেই বলা হয়েছে, নিজেদের অভিযানের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন কাজের কৃতিত্ব নেওয়া ছিল পরিচালনাকারীদের অন্যতম প্রধান কৌশল. তাই অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে নিজেদের প্রভাব নিয়ে তাঁদের দাবি সরলভাবে বিশ্বাস করা যায় না. একইভাবে, তাঁদের ছড়ানোর দাবি করা কিছু ভুয়া খবর উন্মুক্ত সূত্রের গবেষণায় পাওয়া যায়নি. সম্ভবত সেগুলো অপ্রকাশ্য মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল, আগেই সরানো হয়েছিল বা আদৌ পোস্ট করা হয়নি.

তবে উন্মুক্ত সূত্রের প্রমাণ দিয়ে তাঁদের কিছু দাবি আমরা সমর্থন করতে পেরেছি. অভিযানটির ছড়ানোর দাবি করা কিছু জাল উপাদান নিয়ে পরে তথ্য যাচাইকারীরা প্রতিবেদন দেন এবং সরকারগুলো তা খণ্ডন করে. এতে বোঝা যায়, এগুলো এতটাই ছড়িয়েছিল যে প্রতিক্রিয়া জানানো দরকার হয়ে পড়ে. অন্য কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে এমন উপাদান শনাক্ত করেছি, যার সঙ্গে এই অভিযানে তৈরি উপাদানের ঘনিষ্ঠ মিল ছিল. সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, পেরুর একটি স্কুলকে প্রতারণা করে বান্দেরাকে তুলে ধরা অনুষ্ঠান আয়োজনে রাজি করানোর যে দাবি অভিযানটি করে, সেই ঘটনা পরে লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের সংবাদে আসে. এতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অন্তত এক পোলিশ সদস্য মন্তব্য করেছেন বলেও মনে হয়.

প্রভাব বিস্তার অভিযানকে ১ (সর্বনিম্ন) থেকে ৬ (সর্বোচ্চ) মাত্রায় মূল্যায়নকারী বিস্তার-পরিমাপক স্কেল⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) অনুযায়ী, এই অভিযানকে আমরা ৫ম শ্রেণিতে রাখব. প্রমাণ থেকে ইঙ্গিত মেলে, এর ফলে একাধিক দেশের রাজনীতিকেরা প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন. প্রতিবেদন প্রকাশ শুরুর পর এটিই আমাদের ব্যাহত করা প্রথম ৫ম শ্রেণির অভিযান.

ইরান: “বোগাস বাইলাইনস” অভিযান

ভুয়া লেখক-নামে অনলাইন সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশ করানো ইরানভিত্তিক অভিযান.

সংশ্লিষ্ট পক্ষ

আমরা ইরান থেকে পরিচালিত একগুচ্ছ ChatGPT অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছি. তারা ফারসিতে নির্দেশ দিত এবং ফারসি ও ইংরেজিতে উপাদান তৈরি করত. সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভিপিএন দিয়ে ChatGPT ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান আড়াল করতেন.

অভিযানটি আমাদের মডেল দিয়ে দীর্ঘ নিবন্ধ ও সম্পাদকদের কাছে প্রকাশের প্রস্তাব পরিমার্জন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন পরিমার্জন করত. পরিচালনাকারীরা নিবন্ধ প্রকাশের প্রস্তাবে সাতটি ভিন্ন লেখক-নাম ব্যবহার করতেন, তাই আমরা তাঁদের প্রচারের নাম দিয়েছি “বোগাস বাইলাইনস”. দীর্ঘ নিবন্ধগুলোর বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত. বেশির ভাগ মন্তব্যও এই সংঘাত নিয়ে ছিল. অল্প কিছু ছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে, সাধারণত সেগুলোও সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে.

তাঁদের প্রধান কাজের ধারাগুলোর দৃশ্যমান প্রভাবে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল. বিশ্বজুড়ে প্রায় এক ডজন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে এই অভিযানের লেখক-নামে প্রকাশিত বা পুনঃপ্রকাশিত প্রায় ১০০টি নিবন্ধ আমরা শনাক্ত করেছি. এগুলো ছিল ছোট থেকে মাঝারি সংবাদমাধ্যম, যেগুলো সাধারণত আন্তর্জাতিক বিষয়, ভূরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলি নিয়ে কাজ করত. অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো মন্তব্যই পছন্দ, শেয়ার বা পরবর্তী উত্তরের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পেয়েছে বলে মনে হয় না. আসলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রভাব মাপতে পরিচালনাকারীদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর হিসাব ব্যবহার করা হয়েছে. সম্ভবত নিজেদের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেখানোই এর উদ্দেশ্য ছিল.

সামগ্রিক কার্যক্রম দেখে মনে হয়, কোনো বাণিজ্যিক পক্ষ অর্থের বিনিময়ে প্রভাব বিস্তারের প্রচার চালাচ্ছিল. তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষটি নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারিনি. আমরা এ ঘটনার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি.

নিবন্ধ প্রকাশ করানো

এই অভিযানের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ভূরাজনীতি নিয়ে ইংরেজিতে লেখা দীর্ঘ নিবন্ধ পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করতে ChatGPT‑কে বলা. সাধারণত মডেলকে নির্দিষ্ট অনলাইন সংবাদমাধ্যমের লেখা জমা দেওয়ার মানদণ্ড অনুযায়ী ইংরেজি খসড়া মূল্যায়ন করতে এবং সেই মানদণ্ড পূরণে সম্পাদনার পরামর্শ দিতে বলা হতো. পরিচালনাকারীরা সম্পাদনা অনুমোদনের পর মডেলকে একটি ইমেইল লিখতে বলতেন, যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকের কাছে নিবন্ধ প্রকাশের প্রস্তাব দেওয়া যায়.

এসব প্রস্তাবের খসড়ায় সাতটি ভিন্ন ভুয়া লেখক-নাম ব্যবহার করা হয়: এরভিন বি. হসকিনস, নোয়া ল্যামিংটন, সোফিয়া গনজালেজ, মাইকেল হ্যারিসন, এরিকা ফিউজিয়ার, জেনি উইলিয়ামস ও অ্যালিস জনসন. কিছু নিবন্ধের সঙ্গে অনলাইনে প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, প্রত্যেকেই পশ্চিমা সাংবাদিক বলে দাবি করতেন—সাধারণত মার্কিন, যদিও নোয়া ল্যামিংটনের পরিচিতিতে নিউজিল্যান্ডে থাকার দাবি ছিল. তাঁদের কাজের বিষয় হিসেবে প্রায়ই আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য, মানবাধিকার বা সংঘাতের উল্লেখ থাকত. “মাইকেল হ্যারিসন” নামের একটি পরিচয়ের ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীরা মডেলকেই পরিচিতি লিখতে বলেন. (উল্লেখ্য, মার্চে মেটা ইরানের একটি প্রভাব বিস্তার অভিযান ব্যাহত করে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে), যেটিতেও “মাইকেল হ্যারিসন” নামে সাংবাদিকের ভুয়া পরিচয় ছিল.)

কিছু ভুয়া পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করতে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ছিল. যেমন, মাইকেল হ্যারিসনের পরিচয়কে সমর্থন দিতে মিডিয়াম, এক্স ও ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট ছিল. এরভিন বি. হসকিনসের পরিচয়ে এক্স, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসে অ্যাকাউন্ট ছিল. এই পরিচয়ের বর্ণনায় “একজন মার্কিন স্বাধীন লেখক” হওয়ার দাবি ছিল, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্যে অ্যাকাউন্টগুলোর অবস্থান ইরান দেখানো হয়.

এরভিন হসকিনসের ভুয়া পরিচয়ের ইনস্টাগ্রাম পরিচিতি ও অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্যের প্যানেল. এক্সে পশ্চিম এশিয়ার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দেখানো হয়েছে, আর ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্টের অবস্থান ইরান.

ওপরে, এরভিন হসকিনসের ভুয়া পরিচয়ের ইনস্টাগ্রাম পরিচিতি. নিচে বাঁয়ে, এক্স অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্য, যেখানে পশ্চিম এশিয়ার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহারের উল্লেখ আছে. নিচে ডানে, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্য, যেখানে অবস্থান ইরান. আগস্টে মেটা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি নিষিদ্ধ করে.

উন্মুক্ত সূত্রে অনুসন্ধানের কৌশল ব্যবহার করে আমরা এক ডজনের বেশি প্রকাশনায় পরিচালনাকারীদের কোনো না কোনো লেখক-নামে প্রকাশিত প্রায় ১০০টি নিবন্ধ শনাক্ত করেছি. এসব প্রকাশনা সাধারণত আন্তর্জাতিক বিষয়, ভূরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলি নিয়ে কাজ করত, কখনো যুদ্ধবিরোধী বা প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে. আমাদের শনাক্ত করা সবচেয়ে পুরোনো নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে, আর সর্বশেষটি ২০২৬ সালের অক্টোবরে. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর নিবন্ধ প্রকাশের হার অনেক বেড়ে যায়.

বিষয় ও লেখক অনুযায়ী সাজানো, বোগাস বাইলাইনসের সাতটি ভুয়া পরিচয়ে প্রকাশিত নিবন্ধের সময়রেখা. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বিষয়ক প্রতিবেদনই সবচেয়ে বড় বিভাগ, যার প্রকাশ ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ঘন হয়ে ওঠে.

লেখক ও বিষয় অনুযায়ী নিবন্ধের সময়রেখা, জুলাই ২০২৫—সেপ্টেম্বর ২০২৬. ২০২৬ সালের মার্চ থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশের ঘনত্ব লক্ষ করুন.

অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ভুয়া পরিচয়ে প্রকাশিত পাঁচটি নিবন্ধের শিরোনাম: অ্যালিস জনসন, নোয়া ল্যামিংটন, মাইকেল হ্যারিসন, সোফিয়া গনজালেজ ও এরভিন হসকিনস.

এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত লেখক-নামে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধের কিছু শিরোনাম.

অন্তত কিছু নিবন্ধ পরে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়. এতে ইরানি পরিচালনাকারীরা এমন পাঠকদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাব্য পথ পান, যাঁদের কাছে অন্যভাবে পৌঁছাতে পারতেন না.

গণহারে মন্তব্য

নিবন্ধের পাশাপাশি, ক্ষতিকর কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিরা ChatGPT‑কে ইংরেজি বা ফারসিতে ভূরাজনৈতিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে একসঙ্গে অনেক মন্তব্য তৈরি করতে বলেন. তাঁরা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্টের লেখা বা স্ক্রিনশট দিয়ে মডেলকে তাঁদের সামগ্রিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একগুচ্ছ উত্তর তৈরি করতে বলতেন. এসব পরে অনলাইনে পোস্ট করা হতো, প্রায়ই একটির কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরেকটি. পরিচালনাকারীদের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে মানুষের মাধ্যমে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে—দুই পদ্ধতিতেই পোস্ট করার উল্লেখ ছিল. এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় আমাদের মডেলগুলোর সহায়তা নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই.

জুলাইয়ে পোস্ট করা, অভিযানে তৈরি ইংরেজি ও ফারসি উত্তরের পাশাপাশি রাখা স্ক্রিনশট. অ্যাকাউন্টগুলোর পরিচয় ঢেকে দেওয়া হয়েছে.

এই অভিযানে তৈরি এবং জুলাইয়ে পোস্ট করা টুইট: বাঁয়ে ইংরেজি, ডানে ফারসি. ইংরেজি মন্তব্যগুলো এমন একটি ইংরেজি টুইটের উত্তর, যাতে সতর্ক করা হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে “বড় পরিসরে হামলার” প্রস্তুতি নিচ্ছে. ছবির সব মন্তব্য ১০ মিনিটের মধ্যে পোস্ট করা হয়. ফারসি মন্তব্যগুলো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে একটি ফারসি টুইটের উত্তর, যা ১৩ মিনিটের মধ্যে পোস্ট করা হয়.

একসঙ্গে অনেক মন্তব্য তৈরির এই কার্যক্রমের একাংশ ছিল অভিযানের নিজস্ব সংবাদ নিবন্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উত্তর তৈরি করা. এ ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীরা নিজেদের নিবন্ধের প্রচারমূলক পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে প্রশংসা বা সমর্থনসূচক মন্তব্য তৈরি করতেন. সম্ভবত নিবন্ধগুলোকে বেশি জনপ্রিয় দেখানোই ছিল উদ্দেশ্য.

কিছু তথ্য ঢেকে দেওয়া ফেসবুক স্ক্রিনশট: স্থানীয় সংবাদের একটি পাতা সোফিয়া গনজালেজের নামে অভিযানে তৈরি একটি নিবন্ধ শেয়ার করেছে. এর নিচে অভিযানে তৈরি চারটি মন্তব্য রয়েছে.

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদের একটি ফেসবুক পাতার পোস্টে অভিযানে তৈরি নিবন্ধ শেয়ার করা হয়েছে. পোস্টটিতে থাকা মন্তব্যগুলোও অভিযানে তৈরি.

অধিকাংশ মন্তব্যগুচ্ছ আরও সাধারণভাবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত নিয়ে ছিল. ব্যবহারকারীরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার মতো বিষয়ে মন্তব্য চাইতেন. নির্দেশ থাকত যুক্তরাষ্ট্রকে আগ্রাসী, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বস্ত মিত্র এবং ইরানকে মাথা নত না করা ও প্রতিকূলতা সহ্য করে টিকে থাকা ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরার. যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ইরান ইন্টারন্যাশনালের পোস্টে পরিচালনাকারীরা বিশেষভাবে বিপুলসংখ্যক উত্তর তৈরি করেন. ইরানি শাসনের এই সমালোচকের বিরুদ্ধে তাঁরা ফারসিতে দুই ডজনের বেশি বিরূপ মন্তব্যগুচ্ছ তৈরি করেন. অল্প কিছু মন্তব্যগুচ্ছ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের উত্তরে তৈরি হয়, সাধারণত সেগুলোও সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ছিল.

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে পোস্টের উত্তরে অভিযানে তৈরি দুটি ইনস্টাগ্রাম মন্তব্য, যার কিছু তথ্য ঢেকে দেওয়া হয়েছে.

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে পোস্টের উত্তরে এই অভিযানে তৈরি ইনস্টাগ্রাম মন্তব্য.

এসব উত্তরের অল্প কয়েকটি অনলাইনে পোস্ট হতে দেখেছি. আরও অনেক উত্তর উন্মুক্ত সূত্রে আমাদের অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি. সম্ভবত সেগুলো পোস্ট করা হয়নি, অথবা যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল, সেগুলো আগেই সরানো হয়েছিল. (যেমন, তিনটি সাংবাদিক পরিচয়—এরিকা ফিউজিয়ার, অ্যালিস জনসন ও জেনি উইলিয়ামস—তাদের প্রকাশিত পরিচিতিতে এক্স অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারীনাম দিয়েছিল. ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে সবগুলো স্থগিত করা হয়.) অনলাইনে মন্তব্য করা কিছু অ্যাকাউন্টের নাম পশ্চিমা মনে হলেও অবস্থান দেখানো হয় ইরান.

কিছু তথ্য ঢেকে দেওয়া ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত প্যানেল. আগের মন্তব্যগুলো পোস্ট করা উভয় অ্যাকাউন্টের অবস্থান ইরান দেখানো হয়েছে.

ওপরে দেখানো মন্তব্যগুলো করা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত তথ্য, যেখানে অবস্থান ইরান দেখানো হয়েছে.

যেসব পোস্টে এসব উত্তর পেয়েছি, সেখানে এগুলো সাধারণত মোট মন্তব্যের ছোট অংশ ছিল. এতে বোঝা যায়, প্রকৃত ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পরিচালনাকারীদের বক্তব্য প্রাধান্য পায়নি. এগুলো উল্লেখযোগ্য সাড়াও পেয়েছে বলে মনে হয়নি. বরং অভিযানের উত্তরে দেওয়া অনেক পছন্দ এসেছে অভিযানটির সঙ্গেই যুক্ত অ্যাকাউন্ট থেকে. আমরা এ ঘটনার তথ্য শিল্পখাতের অংশীদারদের জানিয়েছি, যাঁরা ব্যবহারকারীদের সাড়া নিয়ে সামগ্রিক মূল্যায়নের সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছেন.

অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন

নিজেদের কার্যক্রমকে বেশি জনপ্রিয় দেখানোর চেষ্টা শুধু প্রকাশ্য পোস্টেই সীমাবদ্ধ ছিল না. উপাদান তৈরির পাশাপাশি পরিচালনাকারীরা মাঝে মাঝে ChatGPT‑কে কিছু প্রতিবেদন পরিমার্জন করতে বলতেন, যেগুলো তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন বলেই মনে হয়েছে. সাধারণত মডেলকে একগুচ্ছ পরিসংখ্যান দিয়ে সেগুলো সাজিয়ে পরিপাটি উপস্থাপনা তৈরি করতে বলা হতো.

নিজেদের⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) মূল্যায়ন লিখতে⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) এআই ব্যবহার করা কোনো অভিযান আমরা এই প্রথম ব্যাহত করিনি. ইরানি পরিচালনাকারীদের নিজেদের কাজ নিজেরাই মূল্যায়নের চেষ্টায় সবচেয়ে লক্ষণীয় ছিল তাঁদের ব্যবহৃত পদ্ধতি. “প্রভাব” মাপতে তাঁদের প্রধান মানদণ্ড ছিল যেসব পোস্টে উত্তর দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর দেখা হওয়ার সংখ্যা—আসল উত্তরগুলোর দেখা হওয়ার সংখ্যা নয়. উত্তর পোস্ট করার আগে ও অনির্দিষ্ট সময় পরে এই সংখ্যা গণনা করা হয়. মূল পোস্টের জনপ্রিয়তা বা অন্য মন্তব্যের মতো কারণে দেখা হওয়ার সংখ্যা বাড়তে পারে—এই হিসাবে তা বিবেচনা করা হয়নি. ফলে অভিযানের প্রভাবের পরিসংখ্যান ব্যাপকভাবে ফুলিয়ে দেখানো হয়. এতে মনে হয়, পরিচালনাকারীরা হয় আরও কার্যকর হিসাবের পদ্ধতি জানতেন না, অথবা তা ব্যবহার করেননি.

প্রভাব

আসলে, উন্মুক্ত সূত্র পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া প্রমাণ অনুযায়ী, অভিযানের দুটি প্রধান কাজের ধারার সম্ভাব্য প্রভাবের মাত্রায় বড় পার্থক্য ছিল.

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের শনাক্ত করা উত্তরগুলোতে সাধারণত পছন্দ, দেখা ও মন্তব্যের সংখ্যা কম ছিল—এক বা দুই অঙ্কের ঘরে. আগেই বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোস্টের মোট মন্তব্যের মধ্যে এসব উত্তর সাধারণত ছোট অংশ ছিল. প্রভাব বিস্তার অভিযানকে ১ (সর্বনিম্ন) থেকে ৬ (সর্বোচ্চ) মাত্রায় মূল্যায়নকারী বিস্তার-পরিমাপক স্কেল⁠(একটি নতুন উইন্ডোতে খোলে) অনুযায়ী, অভিযানের এই অংশকে আমরা ২য় শ্রেণিতে রাখব. একাধিক মাধ্যমে মন্তব্য থাকলেও নিজস্ব বলয়ের বাইরে ছড়ানো বা উত্তরগুলোর মধ্যে প্রাধান্য পাওয়ার লক্ষণ খুব কম ছিল.

অন্যদিকে, সাংবাদিক পরিচয়গুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিবন্ধ প্রকাশ করাতে সফল হয়, যেগুলোর কিছুতে বিপুল অনুসারী ছিল. যেমন, এই অভিযানের নিবন্ধ প্রকাশ করা একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ২০২৬ সালের আগস্টে ফেসবুকে প্রায় ২০ লাখ, এক্সে প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার এবং ইনস্টাগ্রামে ৫ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি অনুসারী ছিল. একাধিক সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত পৌঁছাতে পারার ভিত্তিতে আমরা অভিযানের এই অংশকে ৪র্থ শ্রেণিতে রাখব.